বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উদ্বোধন করা হলো গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামবাসীর স্বপ্নের মওলানা ভাসানী সেতু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

তিস্তা নদীর ওপর নবনির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে সংযুক্ত করা এই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো।

উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ প্রথমে সেতুর নামফলক উন্মোচন করেন। এরপর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি মো. ওমর ফারুক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। ফিতা কেটে সেতুর দ্বার উন্মুক্ত করার সময় উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই সেতু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন, ছোট ও মাঝারি শিল্প কারখানা স্থাপন এবং আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সেতুটি এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে সহায়ক হবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। ভোর থেকেই তিস্তার পাড়ে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বপ্নের সেতু বাস্তবে রূপ নিতে দেখে স্থানীয়দের চোখেমুখে আনন্দ ও গর্বের ঝলক ফুটে ওঠে। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউবা দলবেঁধে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে আসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ, পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা, গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী এবং সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্থানীয়দের সঙ্গে করমর্দন করে আনন্দ ভাগ করে নেন।

গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সেতুটির নামকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) যৌথ অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬০ মিটার। এতে দুটি লেন রয়েছে এবং মোট স্প্যান সংখ্যা ৩১টি। এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু। সেতুর পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ