গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা থানার সামনের পুকুরে সিজু মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের উদ্দেশ্য।”
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) রংপুর রেঞ্জ মোছা. রুনা লায়না এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিজুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিজু মিয়া সাঘাটা থানায় ঢুকে এএসআই মহসিন আলীকে ছুরিকাঘাত করে থানার সামনে পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাঘাটা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুর থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। সে সময় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে শনিবার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়—সিজুকে পুলিশের সদস্যরা পুকুরপাড়ে পিটিয়ে মারধর করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবারই স্থানীয়রা গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। পরদিন রোববার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবারের পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার (এ-সার্কেল)।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।








