বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রী ও প্রেমিকের হাতে স্বামী খুন, রহস্য ফাঁস করল ৭ বছরের কন্যা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা করেছেন এক স্ত্রী ও তার প্রেমিক—এমন অভিযোগ উঠেছে। হত্যার রহস্য ফাঁস করে দেয় তাদের সাত বছরের কন্যাসন্তান। নিহত ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন (৩৮)। এ ঘটনায় স্ত্রী হ্যাপি আক্তার (৩০)–কে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কূপতলা ইউনিয়নের স্কুলের বাজার এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইকবালের পরিবার জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে হ্যাপি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী একমাত্র কন্যা লিমা।

পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে হ্যাপি কাঁচপুর এলাকার টেইলার্স কর্মী রুবেল মিয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে যান ইকবাল। গত ২০ অক্টোবর রাতে নিজের ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এ সময় ইকবাল ও রুবেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সুযোগ পেয়ে হ্যাপি ও রুবেল মিলে ইকবালকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর মরদেহ গোপনে সরিয়ে ফেলতে হ্যাপি পরদিন (২১ অক্টোবর) সকালে ট্রাকে করে ইকবালের মরদেহ নিয়ে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। গভীর রাতে মরদেহ পৌঁছালে নিহতের ছোট মেয়ে লিমা পরিবারের সদস্যদের বলে ফেলে—‘বাবাকে মা ও মামা রুবেল মেরে ফেলেছে।’ এতে পুরো পরিবারের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং হ্যাপিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে হ্যাপি ও তার প্রেমিক রুবেল। হত্যার পর বিষয়টি গোপন রেখে মরদেহ দাফন করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু ছোট্ট মেয়ে লিমার কারণে পুরো সত্য ফাঁস হয়ে যায়।

এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইকবালের স্বজন ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম তালুকদার বলেন,

“মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“অভিযুক্ত হ্যাপি আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। রূপগঞ্জ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাঁকে সেখানে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাত বছরের শিশুর মুখে বেরিয়ে আসা কথায় উন্মোচিত হয়েছে এক নির্মম হত্যার রহস্য—যা স্তম্ভিত করেছে পুরো এলাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ