সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘুষ-তদবির ছাড়াই ১৯ জন পেলেন পুলিশের চাকরি

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

“আমি জানি, পুলিশে চাকরি পেতে গেলে ঘুষ দিতে হয় ১০–১২ লাখ টাকা। কিন্তু কখনও ভাবিনি মাত্র ১২০ টাকায় চাকরি পাব।” কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কৃষক পরিবারের সন্তান শামীম ফেরদৌস জীবন। ১৮তম চেষ্টার পর অবশেষে পুলিশের চাকরি পেয়েছেন তিনি। চাকরির ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আবেগে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তার মতোই খুশি পীরগঞ্জ উপজেলার ভ্যানচালক বাবার মেয়ে জাকারিয়া আক্তার লাবণ্য। তিনি বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। বাবার ভ্যান চালানোর সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এইভাবে পুলিশের চাকরি পাব, তা কখনও ভাবিনি। আমি খুব খুশি—আমার বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কম হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। এ সময় মোট ১৯ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং আরও ৪ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া শামীম ফেরদৌস বলেন, “আমি দিনমজুরের ছেলে। অনেক কষ্টের জীবন আমাদের। জীবনের ১৮তম প্রচেষ্টায় অবশেষে পুলিশের চাকরি পেয়ে আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে যাই। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”

চাকরি পাওয়া আরেকজন আনোয়ার হোসেন বলেন, “এখন মানুষ বিশ্বাস করতে পারবে, মেধা আর যোগ্যতা থাকলে ঘুষ-তদবির ছাড়াই চাকরি পাওয়া সম্ভব।”

অভিভাবক আকাশ আলী বলেন, “আমি ভ্যানচালক। আমার মেয়ে পুলিশের চাকরি পেয়েছে। এই চাকরি পাওয়া আমার পরিবারের জন্য বিশাল আশীর্বাদ। ঘুষ বা তদবির ছাড়াই চাকরি পেয়ে আমরা গর্বিত।”

অভিভাবক ফিরোজ হাসান জানান, “আমার ভাইস্তা পুলিশে চাকরি পেয়েছে। আমরা খুব খুশি। এমন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া আমাদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।”

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি।”

এই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রার্থী ও তাদের পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুলিশ লাইন্স চত্বরে তখন আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ