বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে কবরস্থানেও অনিয়ম, দুর্নীতি

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থানেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঢালাই করা গ্রেডবিমগুলোর পলেস্তারায় হাত দিলেই খসে পড়ছে, যার ফলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তা গুড়িয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়। নেটিজনরা এখানে অনিয়মের কারণে ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মিত গ্রেডবিমগুলো ভাঙছেন। ঢালাই করা গ্রেডবিমগুলোর পলেস্তারায় হাত দিলেই তা খসে পড়ছে। পাশে ছিলেন সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী প্রমোদ চন্দ্র রায় ও সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান। সাধারণ মানুষের তোপের মুখে তারা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির আওতায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজীপাড়া এলাকায় একটি গোরস্থানের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ পান “আল আকসা” নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঢালাই করার পরপরই তা খসে পড়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে পিলারসহ গ্রেডবিমগুলো গুড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার মানুষ সচেতন থাকায় অনিয়ম ধরা পড়েছে। তারা দাবি করেন, এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারের যোগসাজশে এই অনিয়ম হচ্ছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিক।

স্থানীয়রা রফিকুল ইসলাম ও সাজ্জাত বলেন, “কবরস্থানে এমন অনিয়ম অবহেলার সাথে সাথে অমানবিক। আমাদের মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন এখানে শুয়ে আছেন, অথচ এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রাচীর নির্মাণের নামে লুটপাট করছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “আল আকসা”-র প্রতিনিধি পশিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগের নির্মিত গ্রেডবিমগুলো ভেঙে নতুনভাবে ঢালাই করা হবে।

উপসহকারী প্রকৌশলী প্রমোদ চন্দ্র রায় বলেন, “ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম ও বালুর পরিমাণ বেশি ছিল। ঠিকাদার অনুমতি না নিয়ে কাজ শুরু করেছে। পুনরায় গ্রেডবিমগুলোতে ঢালাই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ মাবুদ হোসেন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ঢালাই করার দুই সপ্তাহ পর স্যাটারিং খোলা উচিত। ঠিকাদার তা না মেনে একদিন পরই খুলে কাজ শুরু করেছে। আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তিনি পুনরায় কাজ সম্পন্ন করবেন।”

এরআগেও এলজিইডি ও কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে ঠিকাদারের পক্ষে কাজ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ