আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহার এবং সাজানো ডাকাতি ঘটনার রহস্য উন্মোচনের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মামলা প্রত্যাহার ও ডাকাতি ঘটনার রহস্য দ্রুত প্রকাশ করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার ফিরোজ আমিন সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মাছরাঙা টিভির জেলা প্রতিনিধি বদরুল ইসলাম বিপ্লব, চ্যানেল এস-এর সিনিয়র রিপোর্টার জয় মহন্ত অলক, গাজী টিভির সাংবাদিক এমদাদুল হক ভুট্টো, এনটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি এম এ সামাদ, রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনএম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন জীবন, বালিয়াডাঙ্গীর সিনিয়র সাংবাদিক এস এম মশিউর রহমান সরকার, স্বাধীন সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি প্রভাষক মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু, অভিনয় শিল্পী আব্দুর রউফ, সাংস্কৃতিক কর্মী ফজলুর রহমান, সাংবাদিক ইলিয়াস আলী, জানে আলম, নুরে আলম সাদ্দাম, মিলন আক্তারসহ আরও অনেকে।
বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আমিন সরকার বলেন, সাগর-রুনি হত্যা, সাংবাদিক তুহিন হত্যা, কিংবা সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টায় অতীতে কেউ সফল হয়নি। আগামীতেও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। বালিয়াডাঙ্গীর সাংবাদিকদের যেকোনো আন্দোলনে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকরা একসঙ্গে থাকবেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার রহস্য প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানান।
অন্য বক্তারা বলেন, তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সাংবাদিক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নিয়েছে। মামলার বাদী আওয়ামী লীগ পরিবারের লোকজন। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট কালের কণ্ঠের বালিয়াডাঙ্গী প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার পরিবার চাঁদাবাজির অভিযোগ করে। তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সেদিন রাতেই মামলা রুজু করে। গত রবিবার তিনি স্বপরিবারে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। পরে ওই পরিবারটি ডাকাতির নাটক সাজিয়ে পুনরায় মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে।
গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদকর্মীরা থানায় গিয়ে পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ডাকাতি ঘটনার রহস্য প্রকাশের আল্টিমেটাম দেন। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শনিবার সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমে আসেন।








