শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজারে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে বড় ভাইকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছোট ভাই। পুলিশ দ্রুত ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে।

গত ৯ আগস্ট সকালে নিজ ঘর থেকে আব্দুর রহিম রাফি (২৬)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এবং কমলগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রাথমিক তদন্তে হত্যার কারণ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু করেন।

গোপন তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই রানা (ছদ্মনাম, ১৬)কে সেদিনই (৯ আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। নিহতের স্ত্রী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গত ১০ আগস্ট সে ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

হত্যার পেছনের কারণ
জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানায়, ঘটনার আগের দিন (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সে বড় ভাইয়ের কাছে ৫০০ টাকা চায়। রাফি টাকা না দিয়ে গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন সকাল ৭টার দিকে সুযোগ বুঝে খাটের নিচ থেকে ধারালো দা বের করে ঘুমন্ত ভাইয়ের ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপ দেয়।

হত্যার পর সে দা ধুয়ে খাটের নিচে রেখে দেয় এবং রক্তমাখা লুঙ্গিও সেখানে লুকিয়ে রাখে। এরপর স্বাভাবিকভাবে আচরণ করতে থাকে।

তবে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভই হত্যার একমাত্র কারণ নয়। পারিবারিক অশান্তিও বড় ভূমিকা রেখেছে। রাফির বাবা চেয়েছিলেন ছোট ছেলে রানা মাদ্রাসায় পড়ে আলেম হবে, কিন্তু সে পড়াশোনায় অনাগ্রহী ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই রাফি ছোট ভাইকে শাসন করত এবং মাদ্রাসায় থাকার জন্য চাপ দিত।

এছাড়া রাফি পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। দেবর-ভাবী ও ভাইয়ের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। এসব বিষয় মিলেই ছোট ভাইয়ের মনে বড় ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভ বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা (নং-০৫, তারিখ-১০/০৮/২০২৫, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ