ঢাকা: রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে অবৈধ দোকান স্থাপনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কেটের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এই দোকান সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও, অবৈধ দোকানদাররা তাতে কর্ণপাত করেনি।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি দল মার্কেটের মূল প্রবেশপথে অবৈধ দোকান সরানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। দ্রুতই এই বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে দু’পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।
সেনাবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সতর্ক করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তাদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষকারীরা পিছু হটে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর নির্দেশে অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
মার্কেটের এক ব্যবসায়ী জানান, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দোকানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলাম। আজকের সংঘর্ষের পেছনে মূল কারণই ছিল এই দোকানগুলো। সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’’
অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘‘আমরা এখানে অনেক বছর ধরে ব্যবসা করছি। এখন আমাদের উচ্ছেদ করা হলো, অথচ আমাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আমরা সরকারের কাছে পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।’’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ‘‘আমরা আগেও তালতলা মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অবৈধ দখল না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর নজরদারি রাখব।’’
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ব্যবসায়ীরা পুনরায় তাদের দোকানে ফিরে আসেন। তবে কেউ যেন নতুন করে অবৈধ দখল করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটসহ অন্যান্য এলাকায় যেসব অবৈধ দোকান রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে অবৈধ দোকান নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একদিকে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া দোকানিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের অবৈধ দখলদারি রোধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।








