শাওন বণিক, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য হেরোইন আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) কপি এবং প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝরের পোস্ট ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনার ঝড়। অভিযোগে বলা হয়, ১০ লাখ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হলেও, সেই মামলা গায়েব করে পুরাতন একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং জব্দ করা হেরোইন আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ৭ মে রাতে, যখন মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ৮(গ) উপধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর ছিল ২৪/৪৪৩। মামলায় বলা হয়, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ গ্রাম হেরোইন।
তবে পরবর্তীতে এই মামলা বাদ দিয়ে পুরনো একটি মামলায় সাদ্দামকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালতে যে চালান কপি পাঠানো হয়েছে, তাতে নতুন মামলার কোনো উল্লেখ নেই। প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এই তথ্যসহ মামলার এফআইআর কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার দাবি, মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এফআইআর ও চালান কপির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জড়িত। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, থানার ওসি আলী ইফতেখার ও চার উপ-পরিদর্শক মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন যারা আটক-বাণিজ্যসহ নিয়মিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অপকর্মে জড়িত।
এ প্রসঙ্গে মামলার এফআইআরে যিনি বাদী হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন, মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখওয়াত হোসেন বলেন, “আমি এফআইআরের বাদী নই। কে বা কারা আমার নাম ব্যবহার করেছে, জানি না। আমার নাম, বিপি নম্বর, ঠিকানা — সবই দেওয়া আছে, কিন্তু আমি নিজে বাদী হয়নি।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার বলেন, “ঘটনার দিন অনেক আসামি ছিল। ডিউটি অফিসার একজনকে নিয়ে ভুলবশত চালান কপি তৈরি করেছে। পরে কেউ এফআইআর বানিয়ে বাইরে দিয়েছে। থানার কেউ না থাকলে এত কাগজপত্র বাহিরে যেত না। তদন্ত চলছে, আমাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, “যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর থানাকে ঘিরে এর আগেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার এক ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে হয়রানির অভিযোগ করলে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। এবার মাদকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন অভিযোগ ডিএমপির ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।








