নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই উত্তাল হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা সুবিধা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে?’ — তার এই বক্তব্যের পরই মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গর্জে ওঠে: “তুমি কে, আমি কে? রাজাকার! রাজাকার!” — এই স্লোগান শুধু ঢাবি নয়, গোটা দেশের আন্দোলনেই ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন। অনেকে এটিকে কোটা আন্দোলন থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের বাঁকবদলের মুহূর্ত হিসেবেও দেখেন।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ষপূর্তিতে, সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতীকী মিছিল। হলপাড়া থেকে শুরু হয়ে এটি পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলে বিভিন্ন হল থেকে দলে দলে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্লোগানে জানান দেন তাদের অবস্থান:
“তুমি কে, আমি কে? রাজাকার! রাজাকার!”
“কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার! স্বৈরাচার!”
“ফাঁসি চাই! শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই!”
“কোটা না, মেধা! মেধা, মেধা!”
এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবি জুবাইরসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীগণ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সেই জ্বালাময়ী স্লোগান আর আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
তাদের ভাষায়, “সেই রাতে রাজপথে উচ্চারিত ‘রাজাকার রাজাকার’ ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এ স্লোগানই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।”








