রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি

সাবেক মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) পাশাপাশি তাদের করা আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনার মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত মামলার শুনানি শুরু করে।

বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই শুনানি গ্রহণ করছেন। সকাল ১১টার দিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা সুলতানা দিপ্তি রাষ্ট্রপক্ষে দাঁড়িয়ে মামলার পেপারবুক থেকে নথিপত্র পড়ে শোনান। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানি শুরু হয়।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হাইকোর্টের কার্যতালিকায় দেখা যায়, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দায়ের করা আপিলসমূহ আজকের দিনের শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত আলোচিত সিনহা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

এই মামলায় আরও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন—টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব এবং কক্সবাজারের মারিশবুনিয়ার বাসিন্দা মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিন।

বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে, বিচারিক আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে সেটি কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। এই অনুমোদন নেয়ার প্রক্রিয়াটিকে ডেথ রেফারেন্স বলা হয়।

এছাড়া, দণ্ডিত আসামিদের পক্ষে জেল আপিল এবং নিয়মিত আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত, এসব আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি একত্রে অনুষ্ঠিত হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর, মামলার রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয় এবং একই বছর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আসামিরা আলাদা আলাদাভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য আদালতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়, যেখানে মামলার যাবতীয় তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক এবং রায়ের বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ঘটনার সময় সিনহা তার এক সহকর্মীকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির কাজে বের হয়েছিলেন। তার গাড়িটি শামলাপুর চেকপোস্টে থামানোর পর পুলিশের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী গুলি চালান।

এই হত্যাকাণ্ড দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে বিরূপ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে যৌথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়।

আলোচিত এই মামলার বিচারিক রায় ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হলো। আইনজীবীরা মনে করছেন, এই শুনানির মাধ্যমে মামলাটি নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করলো এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে বিচারিক রায়ের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ