শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (পদক্রম) নির্ধারণ বিতর্কে শুনানি মুলতবি

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদক্রম নির্ধারণে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানির জন্য ১৫ জুলাই নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিভিউ আবেদনকারী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে আইনজীবী আলী আকবর সময়ের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানি পেছান।

‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদক্রম নির্ধারণে একটি আনুষ্ঠানিক তালিকা। ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে এটি প্রণয়ন করা হয়। পরে সময় সময় এটি সংশোধন করা হয়, সর্বশেষ ২০০৩ সালে।

এই তালিকায় প্রশাসন ক্যাডারের সচিবদের তুলনায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিম্নক্রমে রাখার বৈধতা নিয়ে ২০০৬ সালে রিট করেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মো. আতাউর রহমান। ওই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দিয়ে সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ৮ দফা নির্দেশনা দেয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১১ সালে আপিল করে। শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদধারীদের ওপরের দিকে রাখা উচিত এবং তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। জেলা জজদের পদক্রম সচিবদের সমান করে আট ধাপ উন্নীত করা হয়। প্রধান বিচারপতির অবস্থান স্পিকারের সমান করা হয়। এছাড়া স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। পরে ২০১৭ সালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্ম কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন। এই আবেদনে রাষ্ট্রের ৯০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পক্ষভুক্ত হন।

সেই রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ মে শুনানি হয় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু আজ আদালতে সালাহ উদ্দিন দোলনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে তা মঞ্জুর করা হয়।

শুনানিকালে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিহাদ কবির এবং রাষ্ট্রপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, মূল আবেদনকারী আইনজীবী অসুস্থ থাকায় শুনানি পিছিয়ে ১৫ জুলাই ধার্য করেছে আদালত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী তারিখে রিভিউ আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এই রিভিউ আবেদন ও শুনানিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে পদক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও টানাপড়েন আবারও আলোচনায় এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ