পথে প্রান্তরে রিপোর্ট:
ঢাকার মিরপুর–১১ এলাকা যেন চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। নিরীহ স্যান্ডেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি—বাঁচতে হলে চাঁদা দিতে হবে, আর না দিলে রক্ত ঝরবে।
এলাকার কুখ্যাত বখাটে ও মাদকাসক্ত চাঁদাবাজ—আমান, আরমান, শাকিল ও তাদের ১০/১২ জনের গ্যাং—বছরের পর বছর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাঁচ শত থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে আসছে বলে মিরপুর ১১ এর ক্ষুদ্র স্যান্ডেল ব্যবসায়ী মো: হেলিম দৈনিক পথে প্রান্তরে’কে জানান। কেউ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর চলে আসে নানান হুমকি, মারধর, এমনকি হত্যার চেষ্টা।
৩ লাখ টাকার দাবিতে রক্তাক্ত হামলা
ভুক্তভোগী মো: হেলিম জানান, গত ৩০ জুলাই তার কাছে ওই চাঁদাবাজ গ্যাংটি ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরপরই চাঁদাবাজ গ্যাং সদস্যরা চাপাতি ও রড দিয়ে তার মাথায় বীভৎসভাবে আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—আমান চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়, আরমান রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়া হেলিমকে ফেলে রেখে চাঁদাবাজরা হেলিমের কারখানার ক্যাশবাক্স ভেঙে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হেলিমকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ
ঘটনার দিনই (৩০ জুলাই) পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাটি এজাহারভুক্ত করে এবং এসআই তোহাকুলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটা দল পাঠানো হয়। কিন্তু হেলিমের অভিযোগ—ঘটনার পরও চাঁদাবাজরা এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ালেও অদ্যাবধি তাদের ধরতে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর দুই দিন ধরে ফোন দিয়ে চাঁদাবাজদের অবস্থান জানিয়েছি, কিন্তু পুলিশ আসেনি। আমরা যেন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি।”
ভয়ে কাঁপছে ব্যবসায়ী সমাজ
এলাকার অন্যান্য স্যান্ডেল ব্যবসায়ীরা বলেন, “আজ হেলিম ভাই রক্তাক্ত, কাল হয়তো আমরা হবো। আমরা ন্যায়বিচার চাই, আমরা বাঁচতে চাই, আমরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে চাই।”
প্রশাসনের প্রতি আবেদন
স্যান্ডেল ব্যবসায়ীদের দাবি—চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে মিরপুরে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই আদালত পল্লবীর চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিলেও অপরাধীরা এখনও অবাধে তৎপর থাকায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।








