সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এনবিআরের আরও ৬ কর্মকর্তার দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু দুদকের

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে এনবিআরের মোট ১৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করল সংস্থাটি।

নতুন যে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা পূর্ব কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, উপ কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট) সেহেলা সিদ্দিকা, কর অঞ্চল-২ এর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের বেশ কয়েকজন সম্প্রতি এনবিআরের ‘সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে সেহেলা সিদ্দিকা ছিলেন ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র। গত মাসে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে সংগঠনের ব্যানারে কয়েক দফা কর্মসূচি পালিত হয়।

দুদক বলছে, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কর ও শুল্ক আদায়ে দায়িত্বে থাকা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে কর ফাঁকি দিতে সহায়তা করেছেন। এতে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কখনও আবার ঘুষ না পেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে করদাতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগের দিন (২ জুলাই) আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাদের অনেকেই এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইভাবে ২৯ জুনও এনবিআরের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। সেদিন ঘোষিত তালিকায় থাকা পাঁচজনই ছিলেন আন্দোলনের নেতৃত্বে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরপর তিন ধাপে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধানে নেমেছে, তাদের বড় অংশই এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এতে অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’র অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যদিও দুদক বলছে, তারা প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই এসব তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে হঠাৎ এনবিআর বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানায়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এনবিআরের একটি অংশ। ‘সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর নেতৃত্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে এনবিআরকে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয় এবং বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।

তবে আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে অনড় ছিলেন। এমনকি তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় তিনি অফিসে যোগ দেন। এই পরিস্থিতির পরপরই আন্দোলনে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরুর ঘটনা সংস্থার ভেতরে এবং বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ