শাওন বনিক, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সন্ত্রাসীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তুচ্ছ ঘটনা থেকেই প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে—যা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যার পর এই দুই এলাকায় ঘটে দুইটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
নবোদয় হাউজিংয়ে গুলি করে হত্যা
বুধবার রাত ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৯ বছর বয়সী গাড়িচালক ইব্রাহিমকে। নিহতের স্ত্রী লাইজু আক্তার জানান, “সন্ধ্যায় ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে ইব্রাহিম আমার কাছে পানি চায়। পানি খেয়ে সে নিচে নামে। আধাঘণ্টা পর হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে নিচে যাই—দেখি সে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
ইব্রাহিমের বন্ধু সুজন ও ভাতিজা সুজন শিকদার জানান, এক সপ্তাহ আগে ভ্যানে ডিম পরিবহনের সময় দুর্ঘটনায় প্রায় ২৭০০টি ডিম নষ্ট হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৭ হাজার টাকা। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি ক্যাবল অফিসে সালিশ বসে। সেখানে ডিম ব্যবসায়ী সজীব ও রুবেলের সঙ্গে ইব্রাহিমের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সজীব ইব্রাহিমকে চড় থাপ্পড় দেয় এবং কোমরের ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে ভয় দেখায়। প্রথম গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয় গুলিটি ইব্রাহিমের বুকে লাগে, ফলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা হামলাকারীদের আটক করে ইব্রাহিমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় জড়িত দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং আদাবর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
মোহাম্মদপুরে পুলিশের সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা
একই দিনে রাত ৯টার পর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আল-আমিন (২৭) নামে এক যুবককে, যিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের বাবা রিপন মিয়া জানান, “মাগরিবের নামাজের পর এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে জানায় কাজল নামের কেউ আল-আমিনকে খুঁজছে। এরপর সে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে জানতে পারি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার মোশারফসহ কয়েকজন আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আল-আমিনের পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আল-আমিন কিছুদিন আগে শেরেবাংলা নগরে একটি ছিনতাইয়ের তথ্য পুলিশকে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল মোশারফের ভাই মান্নান। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই মোশারফ ও তার দলবল আল-আমিনকে হত্যা করে।
পুলিশি পদক্ষেপ
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদাবরের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এই ধারাবাহিক সহিংসতা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছে—তুচ্ছ কোনো ঘটনাও এখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এলাকাবাসী দ্রুত ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।








