মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

না ফেরার দেশে সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার 

প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর আমাদের মাঝে নেই। আজ শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। প্রয়াত শিল্পীর স্বামী বংশীবাদক আব্দুল হাকিম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। চার সন্তানসহ স্বামীকে রেখে তিনি চলে গেলেন অনন্ত জগতে।

ফরিদা পারভীন গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এর আগে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগস্টে ডায়ালাইসিসের সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে পরিবারের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নেওয়া হয়নি।

২০১৯ সাল থেকে কিডনি ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল, যখন শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবনের শুরু ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতার থেকে, নজরুলসংগীত গেয়ে। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে সাধক মোকসেদ আলী শাহ থেকে লালনগীতির তালিম নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি, যার সুর আজও হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

শিল্পীজীবনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩) এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার (২০০৮)।

নতুন প্রজন্মকে লালনের গান শেখাতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অচিন পাখি স্কুল’, যা তার সুরের অমর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ফরিদা পারভীনের চলে যাওয়া শুধু লালনসংগীতের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের সংগীতজগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার সুর আর কন্ঠ চিরকাল আমাদের মনে বেঁচে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ