বিনোদন ডেস্ক:
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টিভি নাটক থেকে শুরু করে বড় পর্দা—বাংলাদেশ থেকে ভারত, সর্বত্রই নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন জয়া আহসান। অর্জন করেছেন অগণিত পুরস্কার, প্রশংসা আর দর্শকের ভালোবাসা। তবে এখন আর সাফল্যের মোহ তাকে টানে না। অভিনেত্রী জানালেন, তার আগ্রহ এখন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে সার্থক হয়ে ওঠার দিকে।
অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী পরিচালিত জয়া আহসানের নতুন সিনেমা ‘ডিয়ার মা’ মুক্তি পাচ্ছে ১৮ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গে। এই উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটছে তার—প্রমোশন, ফটোশুট আর একের পর এক সাক্ষাৎকারে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার বর্তমান মনোভঙ্গির কথা।
সেখানে জয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘স্টারডামে কি আপনি ক্লান্ত? আর কিছু পাওয়ার ইচ্ছা নেই?’
জয়ার জবাব ছিল বেশ স্পষ্ট:
“কী পেলাম বা পেলাম না, সেটা নিয়ে আর ভাবি না। অনেকে বলেন আমি সফল, কিন্তু এখন সাফল্য আর টানে না। সাফল্য শব্দটার সঙ্গে একটা স্বার্থপরতা জড়িয়ে আছে। আমি শিল্পী হিসেবে, মানুষ হিসেবে সার্থক হতে চাই।”
এই মুহূর্তে তার জীবনের মূল টান মাটির প্রতি, শিকড়ের প্রতি। অভিনয়ের ব্যস্ততা শেষে সময় পেলেই নিজের মতো করে থাকেন। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান, গাছপালা, পাখি আর পোষা প্রাণীরা হয়ে ওঠে তার পরম সঙ্গী।
জয়া বলেন,
“চাষাবাদের প্রতি ভালোবাসা আমার ভেতরেই ছিল। ক্যামেরার ঝলকানি আর তারকাখ্যাতি একসময় ক্লান্ত করে দেয়। আগে এগুলোই জীবনের চাওয়া ছিল, এখন মাটির কাছাকাছি থাকতে ইচ্ছে করে। চাষ করাটা আমাকে টেনে আনে সেই মাটির কাছে। ওটাই আমার অক্সিজেন। আমাকে ডিটক্স করে। আমি আমার গাছের সঙ্গে কথা বলি—শুনলে অনেকে ভাববেন নাটক করছি। কিন্তু এটাই আমার বাস্তব।”
কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, আবেগে ভেসে যাচ্ছেন জয়া। কিন্তু সেই ভাবনাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন,
“আমি খুব বাস্তববাদী, সেই সঙ্গে সংবেদনশীল একজন মানুষ।”
জয়ার এই আত্মকথন একধরনের পরিণত উপলব্ধির প্রতিচ্ছবি—যেখানে সাফল্য নয়, জীবনের গভীরতা আর প্রকৃতির টানে খুঁজে পাওয়া যায় এক শিল্পীর সত্যিকার সার্থকতা।








