শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫০০ সিনেমার নায়ক বলিউড অভিনেতা মুরাদের করুণ গল্প

বিনোদন ডেস্ক:

পঞ্চাশের দশকে বলিউডের এক জনপ্রিয় মুখ ছিলেন মুরাদ। অভিনয় করেছিলেন ৫০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে, কিন্তু জীবনের শেষটা ছিল বেদনাময়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পরও তিনি রেখে যেতে পারেননি কোনো বাড়ি কিংবা গাড়ি। ভাড়া বাড়িতে থেকেই কেটেছে জীবনের বেশিরভাগ সময়। অর্থাভাবে কষ্ট পেতে হয়েছে পরিবারকেও।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘ফিল্মি চর্চা’-তে এক সাক্ষাৎকারে মুরাদের ছেলে ও খ্যাতনামা অভিনেতা রাজা মুরাদ বাবার জীবনের এই করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

“আমি দারিদ্র্য দেখেছি, কষ্টের দিন দেখেছি। আমাদের ভোপালের বাড়িতে বিদ্যুৎ পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষার সময় রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতাম।”

রাজা মুরাদ বলেন, বলিউডের অনেক প্রখ্যাত অভিনেতা শেষ জীবনে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কিন্তু এই অবস্থা অনেকটাই তাঁদের নিজের তৈরি। কারণ, তারা ভবিষ্যতের কথা ভাবেননি।

“আমাদের ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানরাও নিজের জন্য বাড়ি তৈরি করে নিয়েছে। তারা জানে, যে কোনো সময় শরীর খারাপ হতে পারে, কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনেক অভিনেতা তখনকার দিনে শুধু খরচই করে গেছেন।”

বাবার জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,

“আমার বাবা মুরাদ ৫০০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু আমাদের একটি গাড়িও ছিল না। আজীবন ভাড়া বাড়িতে থেকেছেন। আমি যখন নিজে প্রতিষ্ঠিত হলাম, তখনই প্রথম একটা বাড়ি কিনে ফেলেছিলাম। পূর্বসূরিদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই আমি নিজের ভবিষ্যৎ গড়েছি। বাবাকে অসম্মান করছি না—তিনি তাঁর মতো করে জীবন যাপন করেছেন, কিন্তু আমি সময়মতো নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পেরেছি।”

এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে রাজা জানিয়েছিলেন,

“আমরা ছোট থাকতে বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করতাম। গাড়ির নামও মুখে আনতে পারতাম না। অথচ আমার বাবাই ছিলেন এক সময়কার ব্যস্ততম অভিনেতা।”

মুরাদের বলিউড যাত্রা শুরু হয় ১৯৩৮ সালে, যখন মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে তাঁকে রামপুর ছেড়ে মুম্বাই চলে আসতে হয়। রামপুরের নবাব রাজা আলী খানের সঙ্গে এক তর্কের পরই তাঁর এই শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত। মুম্বাইয়ে এসে প্রথমে লেখক হতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু পরিচালক মেহবুব খান তাঁকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন।

তিনি অভিনয় করেছেন ‘দো বিঘা জমিন’, ‘আন্দাজ’, ‘মুঘল-ই-আজম’-এর মতো বিখ্যাত সব ছবিতে। এমনকি হলিউডের ‘Tarzan Goes to India’-তেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বিচারকের চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন প্রায় ৩০০টি ছবিতে—এটিও এক অনন্য রেকর্ড।

১৯৯৭ সালে ৮৫ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে প্রয়াত হন মুরাদ। তারচেয়েও বড় সত্য হলো—তিনি রেখে গেছেন এক প্রেরণার গল্প, যার মধ্যে রয়েছে খ্যাতি, সংগ্রাম, এবং একটি শিক্ষণীয় বার্তা: ভবিষ্যতের কথা না ভাবলে, অতীতের গৌরবও টিকিয়ে রাখা যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ