সায়ন্তনী সেন, পথে প্রান্তরে
অনেকে চুল লম্বা করার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয় না। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে চুলের আলাদা যত্ন নেওয়া বেশ কঠিন। তবে কিছু সহজ উপায় নিয়মিত মেনে চললে খুব সহজেই চুল লম্বা ও ঘন করা সম্ভব।
নিয়মিত তেল মালিশ
চুলের পুষ্টি জোগাতে নিয়মিত তেল মালিশের বিকল্প নেই। রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, নারকেল, কাঠবাদাম, জলপাই ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে হালকা গরম করে মাথার ত্বকে মালিশ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও চুল দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে। আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পরপরই এভাবে তেল মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
পরিষ্কার রাখুন চুল
ময়লা জমে থাকলে চুল দুর্বল হয়ে যায়, ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগান। এতে চুল থাকবে পরিষ্কার ও নরম, একইসঙ্গে ভাঙার আশঙ্কাও কমবে।
প্রোটিন ট্রিটমেন্ট
চুলের মূল শত্রু হলো আমিষের ঘাটতি। সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। নারকেল তেল, পেঁয়াজের রস ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে লাগান। এরপর ডিম ও টক দই দিয়ে তৈরি প্যাক লাগিয়ে এক ঘণ্টা রাখুন। এতে খুশকি দূর হবে, পাশাপাশি চুল হবে ঘন ও মজবুত।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস
শুধু বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকেও পুষ্টি পাওয়া জরুরি। নিয়মিত শাকসবজি, ফল, বাদাম, ডিম, দুধ ও মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এসব খাবারে থাকা প্রোটিন ও ভিটামিন চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। আর দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করতেও ভুলবেন না।
চুল পড়া রোধে কিছু নিয়ম
- অনেকক্ষণ তেল রেখে দেবেন না, এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যেতে পারে।
- প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আঁচড়ানো চুল ভেঙে ফেলে।
- শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার বাদ দেবেন না।
- ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো উচিত নয়।
- চুলে স্প্রে ব্যবহার করলে তা দীর্ঘক্ষণ রাখা যাবে না।
চুল লম্বা ও সুস্থ রাখতে আলাদা সময় ব্যয় করা জরুরি নয়। বরং নিয়মিত ছোট ছোট যত্নই দিতে পারে বড় ফলাফল। তাই আজ থেকেই শুরু করুন সহজ কিছু নিয়ম, আর উপভোগ করুন লম্বা ও ঘন চুলের সৌন্দর্য।








