রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশিদের ওপর হবে নিপাহ প্রতিষেধকের পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের ভ্যাকসিনের মধ্যপর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে ২০২৬ সালে
একক ডোজেই তৈরি হতে পারে প্রতিরোধ ক্ষমতা

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের একটি ভ্যাকসিনের মধ্যপর্যায়ের (মিড-স্টেজ) ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান Public Health Vaccines (PHV) উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন PHV02-এর এই ট্রায়াল শুরু হবে ২০২৬ সালের শুরুতে।

বিশ্বব্যাপী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা Coalition for Epidemic Preparedness Innovations (CEPI) এই ট্রায়ালের জন্য PHV-কে ১৭.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেবে। প্রাথমিক ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং তা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

বাংলাদেশে হবে বড় পরিসরে পরীক্ষা

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা, সহনশীলতা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের লক্ষ্যেই বাংলাদেশে এই ট্রায়ালটি চালানো হবে। এতে ৫০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৭০ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

CEPI-র গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ডা. কেন্ট কেস্টার জানিয়েছেন, “PHV02 ভ্যাকসিনটি প্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। এর একটি মাত্র শটই শরীরে দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে, যা নিপাহ ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

এখনো নেই স্বীকৃত ভ্যাকসিন

নিপাহ একটি ভয়াবহ ভাইরাস, যার সংক্রমণে মৃত্যুহার প্রায় ৭৫ শতাংশ। বাদুড় থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ কিছু দক্ষিণ এশীয় দেশে এটি নিয়মিতভাবে সংক্রমণ ঘটায়। বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য বিশ্বে কোনো স্বীকৃত ও কার্যকর ভ্যাকসিন নেই।

সফল ট্রায়ালে মিলবে বৈশ্বিক সুরক্ষা

বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল সফল হলে তা বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে দ্রুত সরবরাহ করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই ভ্যাকসিন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহামারী ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

PHV02 ভ্যাকসিনটি একটি ভিন্ন ভাইরাসকে মডিফাই করে তৈরি করা হয়েছে, যা নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে সক্ষম করে তোলে। এর পদ্ধতি অনেকটাই ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের মতো।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে শুধু ট্রায়ালের ক্ষেত্র নয়, বরং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র: CEPI

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ