আইআরজিসি জেনারেল আলী শাদমানি (বামে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির সঙ্গে দেখা করেন (ফাইল ছবি)
নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
গত ১২ জুন মধ্যরাতে ইরানে আকস্মিক ও সংঘবদ্ধ হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। টার্গেট ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা, এমনকি কিছু আবাসিক ভবনও। এই হামলায় নিহত হন ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী। নিহতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী, খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার জেনারেল আলী শাদমানি।
তাকে হত্যার পূর্ব থেকেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হুমকি ছিল। ফলে নিজের জীবন রক্ষায় জেনারেল শাদমানি সামরিক উর্দি ত্যাগ করে সাধারণ পোশাক পরিধান করেন এবং ছদ্মবেশে চলাফেরা শুরু করেন। কোনো স্মার্টফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বহন করতেন না তিনি। অবস্থান পরিবর্তন করতেন প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর। তা সত্ত্বেও গোপন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তাকে শনাক্ত করে হত্যা করে ইসরায়েল।
জেনারেল আলী শাদমানি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় প্রাণ হারান। তার আগে একই দফতরের কমান্ডার গোলাম আলী রশিদও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
জেনারেল শাদমানির মৃত্যুর পর দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইরান। সরকারের দাবি, এই মেসেজিং অ্যাপ থেকেই তথ্য ফাঁস হয়ে ইসরায়েল তার অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছিল। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন শাদমানির মেয়ে মাহদিহ শাদমানি।
এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মাহদিহ লিখেছেন, “আমার বাবা কোনো স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করতেন না। অবস্থান পরিবর্তন করতেন নিয়মিত। তবুও তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার বাবা সাধারণ ধুলোমাখা পোশাক পরেছিলেন, যাতে কোনো সামরিক প্রতীক ছিল না।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ ইসরায়েলকে গোপন তথ্য সরবরাহ করছে। যুদ্ধ চলাকালে সরকারি প্রচারণায় নাগরিকদের স্মার্টফোন থেকে অ্যাপটি মুছে ফেলতে বলা হয়। তবে হোয়াটসঅ্যাপ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, এই অভিযোগ কেবল ইরানে ব্যবহারকারীদের পরিষেবায় বাধা দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
১২ দিনের সেই ভয়াবহ সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একাধিক শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, আইআরজিসি প্রধান হোসেইন সালামি, আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্স কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ এবং আইআরজিসি ডেপুটি ফর অপারেশনস মেহেদী রব্বানি।
এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে, যার পরিণতি হতে পারে আরও ভয়াবহ সংঘাত।








