শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাইলস্টোনে বিমানবাহিনীর চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা নিতে আসছেন অনেকে

নিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প। সোমবার (২৮ জুলাই) শুরু হওয়া এই ক্যাম্প চলবে এক সপ্তাহ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের জন্য মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মাইলস্টোন স্কুলের মূল ফটকে চিকিৎসা ক্যাম্পের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে, কেউবা ঘটনাস্থল দেখার আগ্রহে।

প্রশাসনিক ভবনের বারান্দায় মানুষের ভিড়। সেখানে বিমানবাহিনীর একজন সদস্য রোগীদের নাম নিবন্ধন করছেন। এরপর নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন সেবা প্রার্থীরা। একাধিক কক্ষে চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

১০৮ নম্বর কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছিল মাইলস্টোন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ আল ফাতাহ। সে জানায়, যে ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, তার ঠিক দোতলায় ছিল তার শ্রেণিকক্ষ। স্কুল ছুটির পর মাত্র কয়েক মিনিট আগে সে ক্যানটিনে চলে যায়। সেই দুর্ঘটনায় তার বন্ধু শামীম মারা গেছে।

আহমেদ বলে, “রাতে ঘুমাতে ভয় পাই। স্বপ্নে শামীমকে দেখি, খুব কষ্ট হয়।”

অপরদিকে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুহান হোসেন এসেছে অভিভাবকের সঙ্গে। তার কানে ব্যথা, ফুলে আছে। মুখ ও হাতে পোড়ার দাগ দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা ওষুধ দিয়ে প্রয়োজন হলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানোর কথা জানান।

চিকিৎসা সেবায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার চিকিৎসক শিহাব আলী। তিনি বলেন, “ঘটনার দিন যারা স্কুলে উপস্থিত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কেউ রাতে ঘুমাতে পারছেন না, কেউ দগ্ধ হয়েছেন। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শ দিচ্ছি। যাদের সমস্যা গুরুতর, প্রয়োজনে সিএমএইচে পাঠানো হবে।”

স্কুলের কর্মী মাসুদ আলম এসেছেন তার ছেলে সিরাতুল মোস্তাকিমকে নিয়ে। মাসুদ জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন, এখন তার শরীরে ব্যথা। আর মোস্তাকিম মানসিকভাবে খুব দুর্বল। যুদ্ধবিমান তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে গিয়েছিল, এবং সে দুই বন্ধুকে হারিয়েছে। এখন বাসার ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ গেলেই সে ভয় পায়।

চিকিৎসকেরা মোস্তাকিমকে নিয়মিত খেলাধুলায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং একাকীত্ব এড়াতে পরিবারকে সচেতন থাকতে বলেছেন।

চিকিৎসা ক্যাম্পে আজ দুজন চিকিৎসক ও কয়েকজন সহকারী মিলে ১৫ সদস্যের একটি দল সেবা দিচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যেই প্রায় ৫০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্যাম্প সম্পর্কে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। অল্প দগ্ধ, পোড়া, আগুনের আঁচ লাগা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কিছু আহত ব্যক্তি, যাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া দেওয়া হয়েছে, তারাও সেবা নিতে এসেছেন।

এই ক্যাম্প যেন শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়, হয়ে উঠেছে একধরনের সহমর্মিতা ও সান্ত্বনার কেন্দ্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ