পথে প্রান্তরে ডেস্ক
“দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষের গালাগালি আর মার খাই, কিন্তু তাদের তো কিছু হয় না”—এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন গাজীপুর হাইওয়ে হাঁসাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু নাঈম সিদ্দিকী।
মুখে দাঁড়ি দেখে কটাক্ষ ও অপদস্ত করার অভিযোগে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার মর্ডান সিটির সামনে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়। দুর্ঘটনার তদন্তে পদ্মা সেতু টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে একটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়। ওসি আবু নাঈম গাড়ির মালিককে ফোন করলে ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিমের পিএ পরিচয়ে ফোন পেয়ে তাকে ডিআইজির অফিসে যেতে বলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে গিয়ে ওসি আবু নাঈমকে গাড়ির মালিক ‘টিকে গ্রুপের এমডি হাসিব’-এর সামনে অপদস্ত করা হয়। ডিআইজি রেজাউল করিম প্রকাশ্যে তার দাঁড়ি নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং হাসিবের পক্ষ নিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকিও দেন। এমনকি হাসিবের নির্দেশেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখতে বলেন।
এ বিষয়ে ওসি আবু নাঈম বলেন,
“একজন সিনিয়র অফিসার একজন সিভিলিয়ানের পক্ষ নিয়ে আমার মতো দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে দাঁড়ি দেখে কটাক্ষ করেন—এটা পুলিশের পোশাককে অপমান করার সামিল। মনে হয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে চাষাবাদ করি।”
তিনি আরও জানান, হাসিব নামের ওই ব্যক্তি বহু প্রভাবশালী এবং প্রায় শতাধিক উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। তাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইজিপি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ড. আকম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন,
“ওসি আমাকে অবগত করেই হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিল। সে অভিযোগ দিয়েছে, এখন তদন্তসাপেক্ষে বিষয়টি দেখা হবে।”
ডিআইজি রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন,
“বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে অভিযোগ যেহেতু এসেছে, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”








