আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেশটি সফলভাবে উড়িয়েছে চারজন যাত্রী বহনে সক্ষম এক এয়ার ট্যাক্সি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরেই সাধারণ মানুষের জন্য এই সেবা চালু করবে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) এই ট্যাক্সি পরীক্ষামূলকভাবে উড়ানোর বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমকে জানিয়েছে। তিনি প্রকল্পটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটিকে দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জবি এভিয়েশনের সহযোগিতায় তৈরি এ বিমান ট্যাক্সিটি সম্প্রতি মারঘাম থেকে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল (আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পর্যন্ত সফলভাবে উড়ে যায়। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত এই উড়ন্ত ট্যাক্সিটি পরিবেশবান্ধব ও শব্দহীন। এটি সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে শহরাঞ্চলে ট্রায়াল ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এরপর আগামী বছর জনসাধারণের জন্য সেবাটি চালু করা হবে। ইতোমধ্যে স্কাইপোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে প্রথম এয়ার ট্যাক্সি ভার্টিপোর্ট নির্মাণ করছে, যেখানে থাকবে দুটি অবতরণ প্যাড ও আধুনিক যাত্রী সুবিধা।
ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বলেন, “এই উদ্ভাবনের লক্ষ্য হলো দুবাইয়ের পরিবহন নেটওয়ার্ককে একীভূত করা, যাতে শহরটি আরও পথচারী ও সাইকেলবান্ধব হয় এবং নাগরিক জীবনের মান উন্নত হয়।”
তিনি আরও জানান, এয়ার ট্যাক্সির পাশাপাশি দুবাই মেট্রোর ব্লু লাইন সম্প্রসারণ, ২২৬ কিমি নতুন রাস্তা, ১১৫টি সেতু ও সুড়ঙ্গ নির্মাণ এবং হাজার কিলোমিটারজুড়ে হাঁটার পথ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুবাইয়ের যোগাযোগব্যবস্থা হবে আরও আধুনিক, দ্রুত ও টেকসই।








