আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এতদিন কৌশলী অবস্থানে থাকলেও এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় চীন কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
গত ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ওয়াং ই। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে কাজা কালাস যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চীনের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে চান, তখন ওয়াং ই বলেন,
“আমরা রাশিয়াকে হারতে দেব না। বেইজিং কখনোই এ যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় মেনে নেবে না।”
চীনের এই অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়াং ই বলেন,
“যদি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে পরাজিত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগ ঘুরে যাবে চীন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে। তখন ওয়াশিংটনের একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হবে চীন।”
তবে চীন রাশিয়াকে এখনো সামরিক সহায়তা দেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ওয়াং ই বলেন,
“চীন যদি সত্যিই রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিত, তবে এই যুদ্ধ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।”
বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা, বিরল খনিজ সম্পদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে পরদিন ৪ জুলাই শুক্রবার, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মাও নিংকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন,
“রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চীনের অবস্থান নিরপেক্ষ। চীন সব সময় কূটনৈতিক সমাধান, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ পথকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই সব পক্ষের ক্ষতি হবে। তাই আমরা চাই দ্রুত এই সংঘাতের অবসান হোক শান্তিপূর্ণ উপায়ে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে চীন আবারও প্রমাণ করল— রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কৌশলগত বন্ধুত্ব কেবল আদর্শিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক হিসাবেও গভীরভাবে জড়িত।








