আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। রবিবার (১৩ জুলাই) প্যারিসে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি সোমবার (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি, যেখানে বৈশ্বিক রাজনীতি দিন দিন জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।” তিনি ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, আগামী বছর ফ্রান্সের সামরিক ব্যয় আরও ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাড়ানো হবে। ২০২৭ সাল নাগাদ এই ব্যয় ৩ বিলিয়ন ইউরো করে আরও বাড়ানো হবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ২০১৭ সালে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৩২ বিলিয়ন ইউরো। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বাজেট ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা তার পূর্বঘোষিত সময়ের চেয়ে তিন বছর আগেই বাস্তবায়িত হবে। তবে এই পরিকল্পনা এখনও ফরাসি পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে ম্যাক্রোঁ বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও দখলের নীতিকে আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি।” ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে দুদেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
বাস্তিল দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এই বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বলেন, “এই বিশ্বে স্বাধীন থাকতে হলে ভয় দেখাতে জানতে হবে, আর ভয় দেখাতে হলে আপনাকে শক্তিশালী হতে হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বে পারমাণবিক শক্তির পুনরুত্থান বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলা এবং ভারত-পাকিস্তানের পারমাণবিক উত্তেজনার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, সম্প্রতি ন্যাটো জোটের সদস্যরা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে আগে এই হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্য শুধু ফ্রান্স নয়, গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত বহন করছে। বিশ্বব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইউরোপীয় নেতারা।








