বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

(টাইমস অব ইসরায়েল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনভিত্তিক প্রতিবেদন)

ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নতুন করে হামলার অনুমতি দিতে পারে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তেলআভিভ। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অংশ নেন। সেখানে উভয় নেতা গত মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রশংসা করেন এবং এটিকে ‘সফল ও কৌশলগতভাবে সঠিক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনের ইঙ্গিত

অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ইসরায়েলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী কর্মকর্তাদের জানান, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস নতুন হামলার জন্য ইসরায়েলকে অনুমোদন দিতে পারে।

এসব পরিস্থিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে,
  • ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বের করে আনতে চায়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায়—নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদো—বাঙ্কার-ব্রেকার বোমা ব্যবহার করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ১২ দিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে।

ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার আগে ইরানের ভূগর্ভস্থ একটি ঘাঁটিতে আনুমানিক ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যা অস্ত্র-গ্রেডের চেয়ে মাত্র এক ধাপ দূরে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বোমা হামলার পূর্বেই এই ইউরেনিয়াম স্থানান্তরিত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইউরেনিয়াম ওই হামলার সময়ই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

কূটনৈতিক সংলাপ ও নিরাপত্তা আশ্বাস

ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও, কূটনৈতিক পর্যায়ে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের কৌশলগত উপদেষ্টা রন ডার্মার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই সাক্ষাৎকারের পর ডার্মার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘শূন্য-সমৃদ্ধকরণ’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে দিতে চায় না।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজের ঠিক আগমুহূর্তে নেতানিয়াহু ও ডার্মার আলাদাভাবে মার্কো রুবিও ও স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এই বৈঠকগুলো এবং পরবর্তী আলোচনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর ভবিষ্যতে যৌথ হামলার পরিকল্পনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষকে রুখে দিতে চাইছে এবং এর জন্য তারা সব ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল প্রস্তুত রাখছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল যদি আবার হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্রয় বা পরোক্ষ অনুমোদন নিয়ে ঘটতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ