সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি ব্রিটেনের প্রায় ৬০ এমপি-লর্ডের

(ফাইল ছবি)

অনলাইন ডেস্ক: 

ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬০ জন এমপি ও লর্ড। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স ও উচ্চকক্ষ লর্ড সভার সদস্যরা এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানান।

চিঠিটি গত ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের কাছে পাঠানো হয়। তাতে শুধু অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ নয়, বরং সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবিও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেই ডেভিড ল্যামি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—গাজায় যুদ্ধবিরতি না এলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ব্রিটেন ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিদের মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ ২৭টি দেশের সঙ্গে একজোট হয়ে ইসরায়েলকে নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি, গাজায় জরুরি ত্রাণ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছে দেশগুলো।

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যামি বলেন, “গত কয়েক মাসে আমরা একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। যদি ইসরায়েলের আচরণ পরিবর্তন না হয় এবং মানবিক দুর্ভোগ কমে না, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।”

চিঠিতে স্বাক্ষর করা এমপি ও লর্ডরা যুক্তি দেন, যদি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি চলমান থাকে, তাহলে ব্রিটিশ সরকার এক ধরনের ‘সহযোগী’ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যা যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যার দায় ঘাড়ে তুলে নিতে পারে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন জারাহ সুলতানা, জন ম্যাকডোনেল এবং জেরেমি করবিনের মতো সংসদ সদস্যরা।

লেবার পার্টির এমপি স্টিভ উইদারডেন, যিনি চিঠিটির সমন্বয় করেছেন, জানান—ইসরায়েলের ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর প্রায় ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ ব্রিটেনে তৈরি। তার ভাষায়, “এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ব্রিটিশ রপ্তানি লাইসেন্স না থাকলে এসব বিমান ও বোমা ব্যবহার করা যেত না।”

এই উদ্যোগ আসে এমন এক সময়, যখন পার্লামেন্টে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এরপরেই আইনপ্রণেতারা চিঠিটি পাঠান।

২০২৪ সালে ব্রিটেন থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে Export Control Joint Unit (ECJU)। চিঠিতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।

ট্রেডমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার দাবি করেন, ওই বছরের অনুমোদিত ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্সের বেশিরভাগই তৃতীয় দেশের—বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের—পুনঃরপ্তানির জন্য ছিল।

তবে চিঠিতে বলা হয়েছে, ECJU-র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ইস্যু করা ১৪১.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডিভিজ্যুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স-এর অর্ধেকেরও বেশি সরাসরি ইসরায়েলেই ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—মন্ত্রী যা বলছেন, তার সঙ্গে ECJU-র প্রকাশিত তথ্য কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

আলেকজান্ডার আরও বলেন, প্রায় ৮৫ শতাংশ লাইসেন্সের (যার আর্থিক মূল্য ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি) উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট ন্যাটো মিত্র দেশের জন্য ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা।

তবে ব্রিটিশ এমপিরা জোর দিয়ে বলছেন—ইসরায়েলের সঙ্গে এই অস্ত্র সম্পর্ক অব্যাহত রাখলে ব্রিটেনের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়বে, এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বহনের সামিল হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ