সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

নিজেদের সর্বাধুনিক ও ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) প্রদর্শন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন বিদেশি অতিথিদের সামনে অনুষ্ঠিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচন করেন।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, বৃহস্পতিবার ছিল ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে পরদিন শুক্রবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এক বর্ণাঢ্য সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লাম এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

কুচকাওয়াজে দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণযানসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। তবে ‘হোয়াসং-২০’ নামে সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটিকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির সেনাবাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কেসিএনএ।

হোয়াসং সিরিজের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর নির্ভুলতা, নির্দেশনা ব্যবস্থার দক্ষতা এবং বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ওয়ারহেডের স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি ইঞ্জিনটি প্রায় ১,৯৭১ কিলোনিউটন পর্যন্ত সম্মুখ বল উৎপাদনে সক্ষম, যা উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী রকেট ইঞ্জিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াসং-২০ একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ভেদ করতে পারে।

কেসিএনএ জানায়, সামরিক কুচকাওয়াজে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন সেনাবাহিনীকে বহির্বিশ্বে অভিযান পরিচালনার জন্য উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনীর বীরত্ব শুধু দেশের প্রতিরক্ষাতেই নয়, বরং দূরবর্তী নির্মাণ ঘাঁটিগুলোতেও দৃশ্যমান হবে। সেনাবাহিনীকে এমন এক অজেয় শক্তিতে পরিণত হতে হবে, যা সব ধরনের হুমকিকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম।”

এদিকে, শুক্রবার কিমের সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে আস্থার প্রতীক।

কেসিএনএর বরাতে আরও জানানো হয়, আলোচনাকালে কিম জং উন বলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি উভয় দেশের সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন চুক্তিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ