শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাশ্মিরে পেহেলগাম হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া: কোন পথে যাবে নয়াদিল্লি?

কাশ্মিরে পেহেলগাম হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া: কোন পথে যাবে নয়াদিল্লি?

ভারতশাসিত কাশ্মিরের পেহেলগামে মঙ্গলবার ঘটানো নৃশংস আক্রমণে, যেখানে পর্যটক হিসেবে আসা সাধারণ মানুষদের মধ্যে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন, তা ২০১৯ সালের পর থেকে কাশ্মিরে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। এই ঘটনার লক্ষ্য ছিল সরাসরি অমলার জীবন; হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন ভারত সরকার বলছে—ক্ষেতে-শহরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মির ইস্যু বহু বছর ধরে—যেখানে ভারত-পাকিস্তান উভয়েই সম্পূর্ণ অঞ্চলটির মালিকানা দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে শাসন করে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণকৃত অংশ—দুই দেশের ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

আক্রমণের ঠিক একদিন পরই নয়াদিল্লি ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু ‘কড়া পদক্ষেপ’: ভারতের প্রধান সীমান্ত পারাপথ বন্ধ, দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি কূটনীতিক বহিষ্কার, ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের মধ্যে কিছু ভিসা বাতিল ও দুই দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক ‘জোরালো জবাব’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন—যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাড়াও সেই ঘটনার পেছনে যারা আছে, তাদেরও টারগেট করা হবে।

এখন প্রশ্ন সামরিক জবাব আসবে কিনা নয়, বরং কখন ও কেমন হবে। সামরিক ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন বলেন, ২০১৬–২০১৯ সাল থেকে ভারতের জবাবের ধরন ঢুকে গেছে সীমান্ত পেরিয়ে অভিযানের বা বিমান হামলার ধারায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে, সরাসরি পাকিস্তানের ভেতর ঢুকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন, এবং পাকিস্তানও একইভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেবে—সুক্ষ্ম হিসাবের ভুল দু’পক্ষের জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারে।

২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত “সার্জিকাল স্ট্রাইক” চালালে, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী বালাকোটে বিমান হামলা চালায়—যার জবাবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং এক ভারতীয় পাইলট বন্দি হয়। পরের বছর ২০২১ সালে উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতি সম্মত হয়, যা আজও বেশ কার্যকর।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, এই হামলায় সাধারণ পর্যটক নিহত হওয়ায় যদি দিল্লি মনে করে পাকিস্তানের কোনও যোগ রয়েছে, সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্য সংকটে ব্যস্ত থাকায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় সীমিত হতে পারে।

ভারতের সামনে দুইটি বিকল্প—এক, গোপন সাব-সার্জিক্যাল অভিযান চালানো, যা অস্বীকারযোগ্য থাকবে কিন্তু জনমনে তেমন রাজনৈতিক চাপ নাও মিটাতে পারে; দুই, ২০১৯ সালের মতো বিমান হামলা বা ক্রুজ মিসাইল হামলা, যা অঙ্গিকারমাফিক শক্তি প্রদর্শন হবে, তবে পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়াবে।

পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশই তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সাবধান—Iটির লক্ষ্য নির্দিষ্ট ও সীমিত রাখার চেষ্টা করা হবে, যাতে উত্তেজনা দ্রুত কমানো যায়। তবু, পরিকল্পনা অনুযায়ি না-ও এগোলে বড় সংঘাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা কাশ্মিরে শান্তি ফেরানোকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে। একইসঙ্গে ভারতকে নিরাপত্তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—পেহেলগাম পর্যটন মরসুমে যে হামলা হলো, তা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ