কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বন্দুক হামলার জেরে পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান অভিযানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, মঙ্গলবার (৬ মে) রাতের দিকে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং কাশ্মীরের হামলার মতো জঘন্য ঘটনায় লস্কর-ই-তৈয়বার মতো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর জড়িত থাকার বিষয়টি এর প্রমাণ। তিনি জানান, ২২ এপ্রিল পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন এবং ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের একটি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে, যেটি মূলত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা।
মিশ্রি আরও জানান, ২০২৩ সাল থেকেই ভারত জাতিসংঘের মনিটরিং টিমকে সতর্ক করে আসছিল যে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে লস্কর ও জইশ-ই-মোহাম্মদ, রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের মতো ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসীদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পেহেলগামের হামলার পর বিভিন্ন তদন্ত ও গোয়েন্দা রিপোর্টে পাকিস্তানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রম এবং হামলার দায় স্বীকারের ঘটনা এটিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী আরও হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই, ভারত নিজেদের নাগরিকদের রক্ষায় ও জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। মিশ্রি জানান, পাকিস্তানের ভেতরে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
এই বিবৃতিতে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারা কোনো প্রকার সহনশীলতা দেখাবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাবে।








