আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে অবশেষে দেশ ছেড়ে পালালেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা।
ফরাসি রেডিও আরএফআই জানিয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এক গোপন চুক্তির পর ফরাসি সামরিক বিমানে করে তাকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলছে দুর্নীতি ও খারাপ শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি আন্দোলনের নেতৃত্যে রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

সেনাবাহিনীর ভেতরে ভাঙন
বিক্ষোভের মধ্যেই সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ‘ক্যাপসাট’ প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ায়। iron
এই একই ইউনিট ২০০৯ সালে রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল। এবার তারাই ঘোষণা দিয়েছে, তারা এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আরও কিছু সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীও (প্যারামিলিটারি) বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নেমে আসে। ফলে রাজধানীতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়ে।
রোববার রাজোয়েলিনা অভিযোগ করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে “ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র” চলছে। তবে সেই অভিযোগ উল্টো তার অবস্থানকেই দুর্বল করে তোলে।

অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে পরিবর্তন
রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী, সিনেট সভাপতি জ্যাঁ আঁন্দ্রে এনদ্রেমাঞ্জারিকে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তরুণদের ক্ষোভ ও দারিদ্র্যের বাস্তবতা
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সোমবার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে স্লোগান দেন—“প্রেসিডেন্টকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।”
২২ বছর বয়সী এক হোটেলকর্মী বলেন,
“আমি মাসে ৩ লাখ আরিয়ারি (প্রায় ৬৭ ডলার) আয় করি। এত অল্প টাকায় শুধু খাবারই জোটানো যায়। সরকার শুধু নিজেদের ধনী করেছে, আমরা তরুণরা আরও গরিব হয়েছি।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।

গভীর সংকটে মাদাগাস্কার
প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে গড় বয়স ২০ বছরের নিচে, আর তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৪৫ শতাংশ কমেছে।
বিশ্ববিখ্যাত ভ্যানিলা উৎপাদক মাদাগাস্কার মূলত নিকেল, কোবাল্ট, বস্ত্র ও চিংড়ি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে।
বর্তমানে ফরাসি সামরিক তত্ত্বাবধানে রাজোয়েলিনার অবস্থান গোপন রাখা হলেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দেশজুড়ে এখন একটাই স্লোগান—
“নতুন নেতৃত্ব চাই, নতুন সূর্যোদয় চাই।”








