আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসনের মুখে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বুধবার (১৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ বক্তব্য দেন।
খামেনি বলেন, “গত মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে আমরা যেমন পাল্টা জবাব দিয়েছি, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে তার চেয়েও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান।”
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সুপরিকল্পিতভাবে ইরানের সংবেদনশীল অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে তাতে সফল হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খামেনির ভাষায়, “জনগণকে উসকে দিয়ে রাস্তায় নামানো এবং সেই সুযোগে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে উৎখাত করাই ছিল তাদের আসল লক্ষ্য।”
গত মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলাকালে তেহরান থেকে একযোগে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয় ইসরায়েলের দিকে। যদিও ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা এর বড় অংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়, তেহরান এটিকে ‘বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
খামেনির এই বক্তব্যে ইরানের পক্ষ থেকে আত্মবিশ্বাস, প্রতিরোধের সংকেত এবং ভবিষ্যতে আরও কঠিন পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ইসরায়েল বা পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা নয়, একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল দৃঢ় করার কৌশল।
খামেনি তাঁর ভাষণে ইরানের ‘স্বাধীন ও আপসহীন প্রতিরোধনীতির’ প্রতি দেশটির অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
সূত্র: আল আরাবিয়া








