পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:
কাশ্মীরের শ্রীনগর বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কেবিন ব্যাগেজ নিয়ে বিরোধের জেরে এক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা স্পাইসজেটের চার কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজন কর্মীর মেরুদণ্ডে ফাটল ধরেছে, অপরজনের চোয়ালে গুরুতর আঘাত লেগেছে। রোববার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিতেশ কুমার সিং। ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
স্পাইসজেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৬ জুলাই দিল্লিগামী একটি ফ্লাইটের চেক-ইন চলাকালে ওই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার কেবিন ব্যাগ দুটির ওজন ছিল ১৬ কেজি, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। স্টাফরা তাকে অতিরিক্ত ব্যাগেজ বাবদ ফি পরিশোধের অনুরোধ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ সময় তিনি একটি স্টিলের সাইনবোর্ডের স্ট্যান্ড তুলে কর্মীদের ওপর হামলা চালান। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিমান সংস্থার আরও দাবি, বোর্ডিং ফি পরিশোধ না করেই ওই কর্মকর্তা জোর করে অ্যারোব্রিজে প্রবেশ করেন, যা বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরে সিআইএসএফ সদস্যরা তাকে গেটে ফিরিয়ে আনলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি চারজন গ্রাউন্ড স্টাফকে বেধড়ক মারধর করেন।
স্পাইসজেটের বিবৃতিতে বলা হয়, “এক কর্মী হামলার পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে ওই সেনা কর্মকর্তা তাকে বারবার লাথি মারতে থাকেন। অপর একজন সহকর্মী তাকে সহায়তা করতে গেলে তাকেও চোয়ালে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়।”
এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেনা সূত্র বলছে, সেনাবাহিনী সব সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্পাইসজেট ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। অভিযুক্ত যাত্রীকে ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে তারা। পাশাপাশি, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।








