আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মস্কোয় নিযুক্ত তালেবান সরকারের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, ক্রেমলিন। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে— তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতেই এগিয়ে গেল মস্কো। এর মাধ্যমে রাশিয়া হয়ে উঠল প্রথম রাষ্ট্র, যারা তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিল।
এর আগে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবান সংগঠনটির ওপর থেকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষিত তকমা তুলে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক কৌশল, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বজায় রাখার লক্ষ্যেই আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাচ্ছে রাশিয়া।
২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখল করে। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থানসহ নানা বিষয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছে তালেবান সরকার। এসব কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পশ্চিমা দেশ তাদের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। একইসঙ্গে এটি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নারীদের অধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও তালেবান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।








