ভারতের বিমান হামলার পর পাকিস্তানে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। গত রাতে ভারত পাকিস্তানের ৯টি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে পাকিস্তান তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা হামলার অনুমতি দেয়। এর পর থেকে সীমান্তে উভয় দেশের মধ্যে গোলাগুলির খবর আসতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা দুই দেশের পক্ষ থেকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পরিস্থিতিকে হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল। ট্রাম্প আশা করছেন, খুব শিগগিরই এই উত্তেজনা শেষ হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ উত্তেজনাকে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দুই দেশের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উভয় দেশেই যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়, তাহলে কেউই লাভবান হবে না।
চীন
চীন ভারতের হামলাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট ভারতের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার অধিকারকে বোধগম্য বলে জানান, তবে তিনি উভয় দেশকেই উত্তেজনা এড়াতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। তিনি উভয় দেশের প্রতি সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়া
রাশিয়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য মস্কো মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পাকিস্তানের পহেলগাম হামলার বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানায় সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মালয়েশিয়া উত্তেজনা কমাতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
ইইউ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।
এই সব বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে একটাই বার্তা স্পষ্ট— দুই দেশকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে হবে।








