যুক্তরাজ্য ও ভারত এক ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। এই চুক্তির ফলে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতে হুইস্কি, গাড়ি এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। পাশাপাশি ভারতীয় পোশাক, জুতা ও অন্যান্য পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যে আরোপিত শুল্ক কমে যাবে।
তিন বছর ধরে আলোচনার পর স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে অভিবাসন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, এমনকি যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও নয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ব্রিটিশ জনগণ ও ব্যবসার জন্য সুফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনে গতি আনবে।

২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। সরকার আশা করছে, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক বছরে আরও ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়বে।
চুক্তিটি কার্যকর হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একবার চালু হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের ফলে যুক্তরাজ্যের ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। শুল্কছাড়ের আওতায় পড়বে পোশাক, জুতা, হিমায়িত চিংড়ি, খাদ্যপণ্য, গহনা ও রত্নপাথর।
এছাড়া ব্রিটিশ পণ্যের মধ্যে জিন ও হুইস্কির ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং ভবিষ্যতে আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুল্ক হ্রাস পাওয়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রসাধনী, ব্রিটিশ খাদ্য যেমন মেষের মাংস, স্যামন মাছ, চকলেট ও বিস্কুট।
চুক্তিতে সেবা খাত ও সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ভারতে সরকারি চুক্তির জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
ব্রিটিশ ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রী জনাথন রেনল্ডস বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ই ‘বৃহৎ সুবিধা’ ভোগ করবে। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নেন।
ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য যে কয়টি বড় বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
এই চুক্তির আওতায় ভারত ও যুক্তরাজ্যের কিছু কর্মী তিন বছরের জন্য জাতীয় বীমা (ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স) প্রদানের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। ফলে তারা শুধুমাত্র নিজ নিজ দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর দেবেন। ভারত সরকার একে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিভিন্ন দেশকে বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব অনুধাবনে বাধ্য করেছে। মোদি সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাজ্যকে উচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে দিল্লি।
যুক্তরাজ্য ও ভারত এক ‘ঐতিহাসিক’ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন বছর ধরে আলোচনার পর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর ভারতে পণ্য রপ্তানি সহজ হবে এবং ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যে শুল্ক হ্রাস পাবে। এতে উভয় দেশের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় পোশাক, জুতা, গহনা, রত্নপাথর, হিমায়িত চিংড়িসহ খাদ্যপণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যে আরোপিত শুল্ক কমানো হবে। ফলে যুক্তরাজ্যের ভোক্তারা এসব পণ্য তুলনামূলক কম দামে কিনতে পারবেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের বাজারে হুইস্কি, জিন, মহাকাশ প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রসাধনী, মেষের মাংস, স্যামন মাছ, চকলেট ও বিস্কুট রপ্তানি আগের চেয়ে সহজতর হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে এবং জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনে গতি আনবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির ফলে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। সরকার আশা করছে, নতুন চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক বছরে অতিরিক্ত ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাবে। তবে এই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগতে পারে।
চুক্তিতে সেবা খাত ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ভারতে সরকারি চুক্তির জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতা করতে পারবে। এতে উভয় দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাত উপকৃত হবে।
এক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে, ভারত ও যুক্তরাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু কর্মী তিন বছরের জন্য ‘ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স’ থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর ফলে কর্মীরা শুধুমাত্র নিজ দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর দেবেন, উভয় দেশে নয়। ভারত সরকার একে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছে। এই সুবিধা ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ কোম্পানির কর্মী এবং যুক্তরাজ্যে সাময়িকভাবে প্রেরিত ভারতীয় কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
চুক্তিতে শিক্ষার্থী বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট করেছে, এই চুক্তির সঙ্গে ভিসা বা অভিবাসন সংক্রান্ত ছাড় জড়িত নয়। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পূর্বের নীতিমালা বহাল থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ভারতকে যুক্তরাজ্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মোদি সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যকে একটি উচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য তার বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছে। এই চুক্তিকে তারা ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, কৌশলগত সম্পর্কেও একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। চুক্তির বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী অগ্রগতি দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে। তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি যা ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।








