পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:
ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মাত্র এক দিনে দেশটির ৫৩টি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ পোস্ট ও ৮টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়া। রোববার (২৭ জুলাই) রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান দেশটির ‘ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট’-এর মুখপাত্র কর্নেল আলেকজান্ডার গর্দেয়েভ।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রায় ১৯০ জন সেনা নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে ধ্বংস হয়েছে একটি সাঁজোয়া যান, ৮টি মোটরযান, ১৩টি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ পোস্ট এবং স্টারলিংকের ৮টি স্যাটেলাইট টার্মিনাল।
গর্দেয়েভ আরও বলেন, “ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট ইউনিট ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা অতিক্রম করে গভীরে অগ্রসর হয়েছে। এসময় তারা দুটি যান্ত্রিক ব্রিগেড ও একটি মেরিন ব্রিগেডে হামলা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করেছে।”
অন্যদিকে, ‘ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট’-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল লিওনিদ শারোভ জানিয়েছেন, একই সময়ের মধ্যে তারা ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর ২২০ জনের বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং ৪১টি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ পোস্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
শারোভ জানান, “আমাদের ইউনিট ২৫টি ড্রোন, ৪টি গোলাবারুদ ভাণ্ডার, দুটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন, ১৩টি মর্টার এবং ৩টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।” তিনি দাবি করেন, খারকিভ ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের যান্ত্রিক, অ্যাসল্ট এবং টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডগুলোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে এবং ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার বাহিনী নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে তাস জানায়, দোনেৎস্কের জেলেনি গাই ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের মালিয়েভকা গ্রাম রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এছাড়া, রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ছোড়া পাঁচটি ‘হিমার্স’ রকেট এবং ২৫৭টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, শনিবার পর্যন্ত ফ্রন্টলাইনে ৬৯টি সংঘর্ষ হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ বাহিনীর বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার স্তাভরোপল অঞ্চলে একটি রেডিও ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে কথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে। মস্কোর দাবি, ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও ইউক্রেনে ‘নাৎসি ভাবাদর্শ’ প্রতিরোধ করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা এবং অস্ত্র সরবরাহ ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে রাশিয়া।
সূত্র: প্রেস টিভি








