রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৬ দিনে ইরান থেকে ৫ লাখ আফগান বিতাড়িত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে পাঁচ লাখের বেশি আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইরান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ইরান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে মোট পাঁচ লাখ আট হাজার ৪২৬ জন আফগান দেশটি ছেড়েছেন।

বহুদিন ধরেই ইরান সরকার ঘোষণা দিয়ে আসছিল যে, দেশটিতে অবস্থানরত নথিপত্রবিহীন লাখো আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হবে। বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রতিদিন হাজার হাজার আফগান সীমান্ত অতিক্রম করছেন। আইওএমের তথ্য অনুসারে, শুধুমাত্র গত বুধবার ইরান ছেড়েছেন ৩৩ হাজার ৯৫৬ জন। তার আগের দিন, মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ৬৩৫ জন। শুক্রবার সংখ্যাটি পৌঁছায় ৫১ হাজারে, যা এক দিনের হিসাবে সর্বোচ্চ।

জানা গেছে, ইরান সরকার আফগানদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী রোববার। ফলে তেহরানে বসবাসকারী নথিহীন আফগানদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে, আফগানদের অভিযোগ, ইরান ছাড়ার আগে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। বশির নামের ২০ বছর বয়সী এক যুবক জানিয়েছেন, তাকে তেহরানে পুলিশ আটক করে বন্দিশালায় পাঠায়। তার ভাষ্য, ‘প্রথমে তারা আমার কাছ থেকে ২০০ ডলার নেয়, এরপর একটি বন্দিশালায় পাঠায়। সেখানে আমাকে দুই রাত থাকতে হয় এবং আরও ৫০ ডলার দিতে হয়। ওই জায়গায় খাবার তো দূরের কথা, পানি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, বন্দিশালাটিতে তার মতো আরও অন্তত ২০০ জন আফগান বন্দি ছিলেন। তাদের অনেককেই মারধর ও দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে।

সীমান্ত এলাকা থেকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে। কিছু আফগান জানান, ইরানি সীমান্তরক্ষীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আটকে রেখে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানে বসবাসরত আফগান নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, দেশটির কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত নেতিবাচক প্রচারণার কারণে তারা সমাজে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট বা বাজারে অনেক সময় তাদের ‘ইসরায়েলি গুপ্তচর’ বলে অপমানিত হতে হচ্ছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই পদক্ষেপ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্রুত ও ব্যাপক বিতাড়ন প্রক্রিয়া আফগানিস্তানের সংকটকেই আরও ঘনীভূত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ