রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজায় কবর দেওয়ার জায়গাও নেই, মৃত্যু যেন নিত্যদিনের সঙ্গী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

টানা ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর ছায়ায় দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। প্রতিদিনই বাড়ছে লাশের সংখ্যা—হাসপাতালের করিডর, স্কুলের বারান্দা, ধ্বংসস্তূপের নিচে, রাস্তায়, এমনকি বাড়ির উঠোনেও পড়ে আছে অসংখ্য মরদেহ। অথচ দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে উপত্যকায়।

সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার। ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে স্বাধীন গবেষণা সংস্থা প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ এবং মেড-আর্কাইভের যৌথ জরিপে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৮৪ হাজার ফিলিস্তিনি। তাদের অর্ধেকের বেশি নারী, শিশু ও বয়স্ক।

এই জরিপে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার ২০০ জন সরাসরি সহিংসতার শিকার, আর ৮ হাজার ৫৪০ জন মারা গেছেন খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে।

প্রসঙ্গত, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে শুধু সেসব নিহতদের হিসাব রাখা হয় যাদের লাশ হাসপাতালে পৌঁছায়। বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, কারণ বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, যাদের মৃত্যু এখনও সরকারি হিসেবে ধরা হয়নি।

গাজার উত্তরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল—গাজা শহর, রাফাহ ও উত্তরের কিছু অংশে তখনও যুদ্ধ চলছিল, যার কারণে সেখানে সরাসরি জরিপ করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার থেকে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

শুধু মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত আরও ৭ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি ত্রাণ সংগ্রহের সময়েও প্রাণ হারাচ্ছেন গাজার অসহায় মানুষ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৭৫ জন।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী পানি বিতরণ কেন্দ্রেও হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৭০০ জনের বেশি।

গাজার শিশুদের অবস্থা আরও করুণ। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজার প্রতি ১০ শিশুর একজন বর্তমানে অপুষ্টিতে ভুগছে।

এ অবস্থায় গাজার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৬টি এলাকার মানুষকে নতুন করে উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা শহর ও জাবালিয়ার নির্দিষ্ট পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদের অবিলম্বে দক্ষিণাঞ্চলের আল-মাওয়াসির এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিমতীরে অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় এক বৈঠকে বসেছেন ৩০টিরও বেশি দেশের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এক সময়কার ঘনবসতিপূর্ণ এই উপত্যকায় এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ, ক্ষুধা, কান্না আর মৃত্যুর মিছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ