আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:
নিশ্ছিদ্র আকাশের নিচে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। লাল-সবুজ পতাকা হাতে কিছু বাংলাদেশি সমর্থক কাঁপছিল উত্তেজনায়, কেউ হাতজোড় করে প্রার্থনা করছিল। আর মাঠে তখন এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই—যেখানে ফলাফল শুধু একটি ম্যাচ নয়, একটি দেশের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা আর হারিয়ে যাওয়া গৌরবের পুনরুদ্ধার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৬ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। এই জয় শুধুই পরিসংখ্যানের খাতা রাঙায়নি, র্যাঙ্কিংয়ের পালাবদলেও ঘটিয়েছে এক অনুপম পরিবর্তন। আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা।
মে মাসে সর্বশেষ হালনাগাদে যখন আগের এক বছরের পারফরম্যান্স ১০০ শতাংশ এবং আগের দুই বছরের ৫০ শতাংশ বিবেচনায় র্যাঙ্কিং সাজায় আইসিসি, তখন বাংলাদেশ নেমে গিয়েছিল ১০ নম্বরে। ৭৬ রেটিং পয়েন্টে যেন টাইগাররা একঘেয়ে ব্যর্থতার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছিল।
কিন্তু প্রেমাদাসার সেই সন্ধ্যায় সব হিসাব উল্টে দিল মেহেদী হাসান মিরাজ, পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন শান্তদের সংগ্রামী ইনিংস এবং বোলিং। জয় এল ১৬ রানে। রেটিং বেড়ে ৭৭। এক ধাপ ওপরে ওঠার আনন্দ শুধুই সংখ্যার নয়, এটি এক ধরনের আত্মপ্রত্যয়ের পুনর্জন্ম।
আর বাংলাদেশের এই ছোট্ট উত্থানই পরোক্ষভাবে সাহায্য করে দিল পাকিস্তানকেও। কারণ শ্রীলঙ্কার রেটিং হ্রাসে নিজেদের শীর্ষ পাঁচের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে বাবর আজমের দল। আর ভারত? যথারীতি এক নম্বরে। তার নিচে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।
বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—সিরিজের শেষ ম্যাচটাও নিজের করে নেওয়া। তাহলে শুধু সিরিজ নয়, রেটিংয়েও আরও এক ধাপ উন্নতির সম্ভাবনা উজ্জ্বল। দেশের কোটি ক্রিকেটভক্তের হৃদয়ে তাই আজ একটি মৃদু আশা—হয়তো আবারও র্যাঙ্কিংয়ের ছয় কিংবা সাতের ঘরে দেখা যাবে লাল-সবুজকে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রেমাদাসার আকাশের মতোই হয়তো আমাদের ক্রিকেটেও উঁকি দিচ্ছে নতুন দিনের সূর্য।








