সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান তারেক রহমানের

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবি পার্টির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এখনই দায়িত্ব নিতে হবে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের রায়ের মুখোমুখি করতে হবে এবং এ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে হবে বর্তমান সরকারকেই। তিনি মনে করেন, জনগণের ভোটে গঠিত একটি দায়বদ্ধ সংসদ ও সরকারই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে সবাই একমত। একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—দেশের কল্যাণ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

তারেক রহমান আরো বলেন, যেসব দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, তারা এখন রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলনে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জনগণ সেই অপশক্তিকে আর গ্রহণ করবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছেন। এটা মূলত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সবার সতর্ক থাকা উচিত।

তারেক রহমান আরও বলেন, যারা অতীতে তিনবার জনগণের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় এসেছে, তাদের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি তা না করে, তাহলে আগামীতে নির্বাচিত সরকার সেই দায়িত্ব নেবে।

তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কার তখনই কার্যকর হবে, যখন জনগণ প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায় empowered হবে। তাই বিএনপি সবসময় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ ও সরকারের দাবি করে আসছে।

শেষে তিনি বলেন, আজকাল দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে নির্বাচনের দাবি করাও যেন অন্যায়। এটি গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক এবং পলাতক স্বৈরাচারদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। চলমান সংস্কার যদি নির্বাচনের দাবিকে উপেক্ষা করে, তবে সেই সংস্কারের অর্থ কোথায়? এটাই আজ জনগণের বড় প্রশ্ন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকসহ এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ