শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

থমথমে গোপালগঞ্জ, কারফিউ শিথিল তিন ঘণ্টার জন্য

বিশেষ প্রতিবেদক:

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনের মতো কারফিউ জারি রয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকেই শহরের পরিবেশ থমথমে ও আতঙ্কপূর্ণ। প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য, শুধুমাত্র অল্প কিছু রিকশা ও ছোট যানবাহন দেখা গেছে।

কারফিউর কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। শহরজুড়ে অস্থিরতা ও অজানা আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। তবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল করা হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে কারফিউ আরও বাড়ানো বা প্রত্যাহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা সকাল থেকে তেমনভাবে না দেখা গেলেও, দুপুরের দিকে নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে ২২ ঘণ্টার জন্য প্রথম দফায় কারফিউ জারি হয়, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় তা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে শুক্রবার পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘লং মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সারা দেশে মাসব্যাপী পদযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার (১৬ জুলাই) তারা গোপালগঞ্জে পৌঁছান। এর আগের রাতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এনসিপি।

তবে এ কর্মসূচির বিরোধিতা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রতিহতের ঘোষণা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এনসিপির গাড়িবহর শহরে প্রবেশের পথে একাধিক বাধার মুখে পড়ে। এসময় পুলিশের গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের অভিযোগ, এসব হামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জড়িত।

পরে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশস্থলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং ভাঙচুর করা হয় মঞ্চ ও অন্যান্য স্থাপনায়। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নেতারা বক্তব্য দেন ও পরে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হলে ফের হামলার শিকার হন।

এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। কিছু সময় পরই সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে শহরজুড়ে এখনো চাপা উত্তেজনা, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ