শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবীন সৈনিকেরা কখনো দেশবাসীকে হতাশ করবে না: বিজিবি মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এ ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, “নবীন সৈনিকেরা কখনো দেশবাসীকে হতাশ ও নিরাশ করবে না। তাদের দেওয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনে তারা জীবন দেবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দেবে না।”

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিজিটিসিএন্ডসির বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বিজিবি মহাপরিচালক। অনুষ্ঠানে বিজিটিসিএন্ডসির কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী নাহিদুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে বিজিবি ডিজি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন বীর শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী খ্যাত এই বাহিনী ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও এই বাহিনী বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”

তিনি নবীন সৈনিকদের বিজিবির চার মূলমন্ত্র—‘মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’—মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শৃঙ্খলা সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা—এই গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই নবীনরা নিজেদের পূর্বসূরীদের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।”

নারী সৈনিকদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন বিজিবি ডিজি। তিনি বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিয়সী নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা সকল অঙ্গনে যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। নবীন নারী সৈনিকরা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে বিজিবির সুনাম বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।”

তিনি নবীনদের কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে বলেন, “সীমান্তে কর্মজীবনে তাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে বিজিবির ভাবমূর্তি ও গৌরব।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজিবি ডিজি সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে ১ম স্থান অধিকারকারী বক্ষ নম্বর–৫৭৪ সাইফ মিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এরপর নবীন সৈনিকদের চৌকসদল বিজিবি ডিজিকে সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করে। পরে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত ব্যান্ড দলের ব্যান্ড ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ২৬ জানুয়ারি। ২৪ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারীসহ মোট ৬৯৪ জন রিক্রুট বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে পদার্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ