শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেনীতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। নদীগুলোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ২১টি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

বন্যার ফলে পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, মিটার ও ট্রান্সফরমার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রায় ৩১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে পড়ায় বানভাসি মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

ছাগলনাইয়া উপজেলার একাধিক গ্রামে তীব্র স্রোতের কারণে দ্রুত পানি প্রবেশ করছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে করে অন্তত ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, পরশুরামের ১২টি ও ফুলগাজী উপজেলার ৯টি অংশসহ মোট ২১টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এর মধ্যে মুহুরী নদীর ১১টি, কহুয়া নদীর ৬টি এবং সিলোনিয়া নদীর ৪টি স্থানে বাঁধ ভাঙনে অন্তত ১০০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশের বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮২৬ জনকে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ