নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শাহ পরানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হক এই আদেশ দেন।
শাহ পরান ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর ছোট ভাই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য গত রোববার (৬ জুলাই) ১০ দিনের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মুরাদনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন। শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান।
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলার বুড়িচং উপজেলা এলাকা থেকে শাহ পরানকে আটক করে র্যাব। এরপর শুক্রবার ঢাকার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরদিন শনিবার আদালতে তোলা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে সুদের টাকার খোঁজ নিতে গিয়ে ফজর আলী নামের এক ব্যক্তি খালি বাড়ি পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবার টিনের ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এরপর স্থানীয় কিছু যুবক নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করেন এবং সেই ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ২৭ জুন ধর্ষণের এবং ২৯ জুন ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফজর আলীকে স্থানীয়রা আটক করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করলে তার হাত-পা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।








