সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসির তথ্যভান্ডার সুরক্ষাহীন, নেই বিকল্প ‘ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম’

ইসির তথ্যভান্ডার সুরক্ষাহীন, নেই বিকল্প ‘ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম’-pothe-prantore-samiuddin-sakin

জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিশাল তথ্যভান্ডার বর্তমানে মারাত্মক কারিগরি ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত পাঁচটি ওপেনসোর্স ডেটাবেজ ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যেগুলোর কোনো এন্টারপ্রাইজ সাপোর্ট নেই এবং ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো ও অপ্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের উপায় থাকবে না।

গত ১৮ বছর ধরে গড়ে ওঠা এই বিশাল তথ্যভান্ডারের বিকল্প হিসেবে কোনো ‘ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম’ (ডিআরএস) গড়ে তোলা হয়নি। ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা নাশকতা ঘটলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবাগুলো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি ভোটার তালিকা প্রিন্ট করাও সম্ভব হবে না।

সাইবার অডিট কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাকআপ মনিটরিংয়ের জন্য কোনো একীভূত টুলস নেই এবং প্রত্যেক ডেটাবেজ ভিন্নভাবে ব্যাকআপ নেওয়া হয়। তদুপরি, সিস্টেম কতটা রিসোর্স ব্যবহার করছে তাও বোঝার মতো কোনো মনিটরিং পদ্ধতি নেই।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারের কারিগরি নিয়ন্ত্রণ এখনো ইসির স্থায়ী কর্মকর্তাদের হাতে নেই। নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। ইতোমধ্যে ইসির ‘ইন্টারনাল সাইবার অডিট কমিটি’ এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তারা সমস্যাগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমাধানে কাজ করছেন এবং ধাপে ধাপে ইসির স্থায়ী জনবল দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ৪৬ ধরনের তথ্য এই ডেটাবেজে রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্যও। এই তথ্য ব্যবহার করে সরকার ও বেসরকারি ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান নাগরিক যাচাই করে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অতীতে একাধিকবার নাগরিকদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে ইসি।

তথ্য সুরক্ষার জন্য ভবিষ্যতে শুধু হ্যাঁ বা না ভিত্তিক যাচাই সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া যশোর, কুষ্টিয়া ও বরিশালে বিকল্প ডিআরএস স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব।

এদিকে ডেটাসেন্টারের বহু হার্ডওয়্যার পুরোনো হয়ে পড়ায় তথ্য সংরক্ষণও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতিতে ইসির নিজস্ব এক্সেস না থাকায় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে।

সাইবার অডিট কমিটি বিকল্প ডিআরএস স্থাপন, নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাকআপ রিস্টোর, দক্ষ জনবল তৈরি, এবং সব তথ্য রিলেশনাল ডেটাবেজে সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ