সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারত যাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, তারা কারা ও কেন?

ভারত যাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, তারা কারা ও কেন? ভারত-যাদের-বাংলাদেশে-ঠেলে-দিচ্ছে-তারা-কারা-ও-কেন-potheprantore-samiuddin-sakin-bsf-bgb-bangladesh-scaled.png

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ভেতরে অবৈধভাবে অবস্থানকারী সন্দেহে বহু মানুষকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ভারতের পক্ষ থেকে যেটি ‘পুশ-ব্যাক’ বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ তা ‘পুশ-ইন’ হিসেবে দেখছে।

পুশ-ব্যাক প্রক্রিয়া ও আইনি অবস্থান
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুশ-ব্যাক’ বলতে বোঝানো হয়—কোনো ব্যক্তিকে সীমান্তে এনে জোর করে প্রতিবেশী দেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়া। ভারতের আইন অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ার কোনো বৈধতা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। মানবাধিকার কর্মীরাও এটিকে আইনবহির্ভূত বলে সমালোচনা করছেন।

তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাচারের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে বিএসএফ কিছুটা মানবিকতা দেখিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়, যা একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া।

কারা পুশ-ব্যাকের শিকার হচ্ছেন?
ভারতের গুজরাট ও রাজস্থানে সম্প্রতি এক হাজারের বেশি ব্যক্তি অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ দাবি করেছে। যাদের মধ্যে অনেককে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রাজস্থান থেকে ১৪৮ জনকে বিশেষ বিমানে করে ত্রিপুরার আগরতলায় আনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তেও পুশ-ব্যাকের চেষ্টা হয়।

ওড়িশা সহ অন্য রাজ্যগুলোতেও একই ধরনের ধরপাকড় চলছে।

আইন কী বলে?
বিদেশি নাগরিকদের পুলিশ আটক করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হয় এবং বিদেশি আইনের আওতায় মামলা করতে হয়। সাজা হলে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়ম অনেক সময় মানা হচ্ছে না। এতে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার কারণে ফেরত পাঠানো দেরি হয়।

আইনবহির্ভূত ‘পুশ-ব্যাক’ পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ
গুজরাট ও রাজস্থানে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশকে কোনো বিচার ছাড়াই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তাকারী একটি সংগঠন জানায়, শত শত ফোন পেয়ে তারা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেককে ছাড়িয়ে এনেছে, কিন্তু খুব অল্পসংখ্যককেই আদালতে হাজির করা হয়েছে।

একটি ঘটনার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে যেখানে নদীয়ার একজন বাসিন্দাকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তিনি এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন।

আদালতের পথ পরিহার কেন?
পুলিশ ও বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দিলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, শত শত অবৈধ বাংলাদেশিকে ধরা পড়ার কারণে সবাইকে গ্রেফতার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়া সময়সাপেক্ষ। এতে জেলের সংকট সৃষ্টি হবে। তাই বিকল্প পথ হিসেবে সীমান্তে পুশ-ব্যাক করা হচ্ছে।

তবে সরকারিভাবে কেউই এই পদ্ধতির দায় নিচ্ছে না। তবুও বাস্তবে এটাই ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যেহেতু তারা বাংলাদেশি, তাদের নিজের দেশেই তো ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এটাই তারা যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি থেকেই যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ