শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক 

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার দপ্তরে কমনওয়েলথ ইলেকটোরাল সাপোর্ট সেকশনের (ইএসএস) দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইএসএসের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ন্যান্সি কানিয়াগো। সঙ্গে ছিলেন এক্সিকিউটিভ অফিসার ম্যাডোনা লিঞ্চ। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনমুখী এবং এজন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় আট লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবে। পাশাপাশি প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য নির্বাচনী মহড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলা ও থানায় ‘নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ স্থাপন করা হবে, যাতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা (সম্ভব হলে) ও বডি ওর্ণ ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলগুলোর কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।

কমনওয়েলথ প্রতিনিধি ন্যান্সি কানিয়াগো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই কমনওয়েলথের সদস্য। বাংলাদেশ আমন্ত্রণ জানালে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্বে সফলভাবে কাজ করেছে। তিনি জানান, নির্বাচনে কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে সিসিটিভি, বডি ওর্ণ ক্যামেরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহে কমনওয়েলথ সহযোগিতা করতে পারে।

ন্যান্সি কানিয়াগো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নতুন করে ১০ হাজার ২৬৪ জন পুলিশ, ২ হাজার ১৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি, ৫ হাজার ৫১৩ জন বিজিবি এবং ৬৩৪ জন কোস্টগার্ড সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রশ্নে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় চাইলে এ বিষয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ অবাধে, নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে আসবে।

সূত্র: বাসস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ