পথে প্রান্তরে রিপোর্ট:
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচনী প্রস্তুতি, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ে কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচনের সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত
সিইসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন কবে ভোট হবে? উত্তরে তিনি বলেন, “It’s very difficult for me to respond, because I myself don’t know exact date.” অর্থাৎ, তার নিজের কাছেও ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ জানা নেই। তবে আভাস দিয়ে বলেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের তারিখ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “যেটা আপনারা জানেন, আমরাও সেটাই জানি—ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে, রমজানের আগে কিংবা এপ্রিলের শুরুতে ভোট হতে পারে।”
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করেই ছিল প্রস্তুতি
নাসির উদ্দিন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কারণ, প্রধান উপদেষ্টা গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বর অথবা জুনে। ওই ভাষণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি জোরদার করে। তার ভাষায়, “ডিসেম্বরকে ধরে ব্যাক ক্যালকুলেশন করে প্রস্তুতি নেই, কারণ তফসিল ঘোষণার পর অন্তত দুই মাস সময় দরকার হয় সব কার্যক্রম শেষ করতে।”
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে কী কী কাজ করতে হবে, কত দিন সময় লাগবে এসব হিসাব করে এগিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নিয়োগের সময় কোনো টাইমফ্রেম দেওয়া হয়নি, কিন্তু আমি ধরে নিয়েছি যে নির্বাচন হবে।”
সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকার থেকে কোনো নির্দেশনা বা পরামর্শ পায়নি। “আমরা একেবারেই স্বাধীনভাবে কাজ করছি।” প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে সিইসি বলেন, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে এতে নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। “তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, আমি বিস্তারিত জানিয়েছি,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক বক্তব্য কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে না
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে ঘিরে যে মন্তব্য করছে, সে প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আমরা রাজনীতিকদের বক্তব্য দ্বারা গাইডেড নই। তারা নানা ধরনের কথা বলে, কখনো বলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, আবার বলে সংস্কারের আগে হবে না। এটি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য।”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং, তবে নির্বাচন সম্ভব
রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে, মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ সহিংসতা বাড়ছে—এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কতটা সম্ভব? সিইসি স্বীকার করেন যে পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু বলেন, “It is possible.”
তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। “যখন নির্বাচন হবে, তখন দেখবেন সব কিছু শান্ত থাকবে। কারণ প্রতিটি দলই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষেই কথা বলছে।”
তিনি বলেন, জনগণ কোনো বিশৃঙ্খলা চায় না। তাই যদি জনগণ অংশগ্রহণে আগ্রহী থাকে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় বাধা হবে না।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সব পরিকল্পনা
সিইসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সরকার যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এগোচ্ছি। ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কোনো বাধা হবে না বলে আমি মনে করি।”
নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ এখনো অনিশ্চিত থাকলেও, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলেই জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সূত্র: বিবিসি বাংলা








